সরকারের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি আইনজীবী বা পাবলিক প্রসিকিউটরদের (পিপি) তালিকাতেও পরিবর্তন হচ্ছে। তবে সেই পরিবর্তনের জেরে মামলার শুনানিতে অভিজ্ঞতার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলল আলিপুরের জেলা বিচারকের আদালত। একটি জামিনের মামলায় সরকারি আইনজীবীর বারবার সময় চাওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা বিচারক।
সম্প্রতি ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার একটি মামলায় অভিযুক্তের জামিনের আবেদন নিয়ে শুনানি চলছিল। অভিযোগ, একাধিক দিন শুনানির জন্য নির্ধারিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি আইনজীবী বারবার সময় প্রার্থনা করেন। কখনও তিনি জানান, মামলার কেস ডায়েরি এখনও পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। আবার কখনও অন্য মামলায় ব্যস্ত থাকার কারণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে সময় চান।
একই মামলায় দিনের পর দিন সরকারি পক্ষের প্রস্তুতির অভাবের কারণে শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি বিচারকের নজরে আসে। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে আলিপুরের জেলা বিচারক একটি নির্দেশনামা জারি করেছেন। সেখানে আলিপুর আদালতের মুখ্য সরকারি আইনজীবী এবং রাজ্যের ডিরেক্টর অব প্রসিকিউশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
সরকারি আইনজীবীদের মামলার শুনানির আগে প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং কেস ডায়েরি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা উচিত বলেই আদালতের পর্যবেক্ষণে ইঙ্গিত মিলেছে। বিশেষ করে জামিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আবেদনের ক্ষেত্রে সরকারি পক্ষ প্রস্তুত না থাকলে বিচারপ্রক্রিয়া অযথা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সরকারি আইনজীবীদের নিয়োগ ও তালিকা পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁদের অভিজ্ঞতা এবং মামলার প্রস্তুতির বিষয়টিও যথেষ্ট গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।