হরপ্পা সভ্যতার সঙ্গে বাঙালির সম্পর্কের ইতিহাস বেশ পুরনো। প্রত্নতাত্ত্বিক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে হরপ্পা-মহেঞ্জোদারোর ইতিহাসের সঙ্গে বাংলার যোগ আরও দৃঢ় হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক পর্বেরই এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবার নতুন ভাবে সামনে আনছে গুজরাতের লোথাল।
ইতিহাসবিদদের মতে, হরপ্পা সভ্যতার সময় মেসোপটেমিয়া, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এবং আফ্রিকার কিছু অংশের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল। স্থলপথের পাশাপাশি জলপথও এই বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। উপকূল ধরে নৌকোয় পণ্য পরিবহণের মাধ্যমে দূরবর্তী অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল বলে বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে ধারণা করা হয়।
গুজরাতের লোথালে আবিষ্কৃত প্রাচীন বন্দর এবং তার সংলগ্ন বিশাল ডক বা পোতাশ্রয় সেই সামুদ্রিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। তবে সেই সময়ের বাণিজ্যিক নৌযান দেখতে কেমন ছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কৌতূহল রয়েছে।
এবার সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে লোথালেই তৈরি করা হয়েছে হরপ্পা যুগের একটি সম্ভাব্য সমুদ্রপোতের প্রতিরূপ। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ ন্যাশনাল মেরিটাইম হেরিটেজ কমপ্লেক্সের কিউরেটর স্বরূপ ভট্টাচার্য এই মডেলটি নির্মাণ করেছেন।
প্রাচীন নৌযানের সম্ভাব্য কাঠামো, আকার এবং ব্যবহার সম্পর্কে প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য ও ঐতিহাসিক সূত্রকে ভিত্তি করেই প্রতিরূপটি তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা শুধু একটি প্রাচীন নৌযানের ধারণাই পাবেন না, বরং প্রায় কয়েক হাজার বছর আগে ভারতীয় উপমহাদেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য কতটা উন্নত ছিল, তারও একটি বাস্তবচিত্র দেখতে পারবেন।