কলকাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হল দেশের প্রথম ‘শব্দ জাদুঘর’, যা ভাষা, শব্দ ও ধ্বনির ইতিহাসকে নতুনভাবে জানার এক অভিনব উদ্যোগ। জাতীয় গ্রন্থাগারের একটি ভবনে গড়ে ওঠা এই আধুনিক জাদুঘরের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভাষার বিবর্তন, শব্দের উৎপত্তি এবং ভারতের বহুভাষিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
মোট নয়টি গ্যালারিতে সাজানো হয়েছে জাদুঘরটি। আদি শব্দ, মাতৃভাষা, নবরস, ভাষার বিবর্তন, মহাপুরুষদের ভাষাগত অবদান, মৌখিক ঐতিহ্য, পারফর্মিং আর্টস, সর্বজনীন সংলাপ এবং পাবলিক লাইব্রেরির ইতিহাস— প্রতিটি বিভাগেই রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উপস্থাপনা। অডিও-ভিজুয়াল ডিসপ্লে, ডিজিটাল ইনস্টলেশন এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা ভাষার পরিবর্তনের ইতিহাস অনুভব করতে পারবেন।
জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ হল একটি নির্দিষ্ট শব্দের হাজার বছরের বিবর্তনের ধারাকে অনুসরণ করার সুযোগ। কোনও শব্দের প্রাচীন উচ্চারণ, অর্থ এবং সময়ের সঙ্গে তার পরিবর্তনের তথ্য এখানে সংরক্ষিত হয়েছে। ভারতের সংবিধান স্বীকৃত ২২টি ভাষার শব্দভাণ্ডার, ধ্বনি ও ভাষাগত বৈচিত্র্যও এই জাদুঘরে তুলে ধরা হয়েছে।
ভাষাবিদ, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানভাণ্ডার হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে ২০২১ সালে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর ২০২৬ সালে কলকাতায় বাস্তব রূপ পেল দেশের প্রথম শব্দ জাদুঘর।