সিঙ্গুরে টাটাদের প্রস্তাবিত কারখানার জমিতে বিশ্বকর্মা পুজো ঘিরে ফের শিল্পায়নের প্রত্যাশা সামনে এল। শুক্রবার ‘সিঙ্গুর কৃষক শিল্প সমন্বয় পরিষদ’-এর উদ্যোগে তৃণমূল আমলে তৈরি শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে পুজোর আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই ঢাকের বাদ্যি, স্থানীয় বাসিন্দাদের আনাগোনা এবং উৎসবের আবহে এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে। পুজোর আয়োজকদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের শিল্পখরার অবসান ঘটিয়ে সিঙ্গুরে নতুন শিল্প গড়ে উঠুক, এটাই তাঁদের প্রার্থনা।
২০০৮ সালের ৩ অক্টোবর টাটা গোষ্ঠী সিঙ্গুর থেকে সরে যাওয়ার পর প্রস্তাবিত কারখানা আর বাস্তবায়িত হয়নি। জমিতে এখনও লোহার রড, ইট এবং ভাঙা দেওয়ালের অংশ ছড়িয়ে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। একসময় যে জমিতে কৃষিকাজ হত, তার একটি অংশ বর্তমানে চাষের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে বলে দাবি স্থানীয় কৃষকদের। তাঁদের বক্তব্য, দ্রুত শিল্প স্থাপিত হলে কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশ্বকর্মা পুজোর দিন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে। তাঁকে ঘিরে শিল্প স্থাপনের দাবিও জানাতে পারেন কৃষকরা। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সিঙ্গুরে শিল্পায়নের পুরনো বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গুরে শিল্প ফেরানোর দাবি জানিয়ে আসছে। দলের নির্বাচনী সংকল্পপত্রে সিঙ্গুরে শিল্প পার্ক গড়ার প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। রাজ্য বিজেপির নেতারাও টাটাদের ফেরানোর প্রসঙ্গ তুলেছেন। সিঙ্গুরের বিধায়ক অরূপকুমার দাসও জানিয়েছেন, তাঁদের সংকল্পপত্র অনুযায়ী ভবিষ্যতে সিঙ্গুরে শিল্পায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সিঙ্গুরের এই কর্মসূচি তাই শুধু ধর্মীয় আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পুজোর মণ্ডপে জড়ো হওয়া মানুষ শিল্পের পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থান, স্থানীয় ব্যবসার প্রসার এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের জমি ও শিল্প সংক্রান্ত স্মৃতির মধ্যেই নতুন ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়েছে।