প্রায় ২৮ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়ে এবার বিধানসভায় পা রাখার দৌড়ে হাসিরানি রথ। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে তাঁকে বিজেপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানির রাজনৈতিক যাত্রাপথ শুরু হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্নে, ১৯৯৮ সালে। পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবেই পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন।
তৃণমূলের শাসনকালে হাসিরানি রথ পঞ্চায়েত সদস্যার দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি চণ্ডীপুর পঞ্চায়েত সমিতির নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ে। এরপর তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। সেই সময় শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলেই ছিলেন। ২০২০ সালে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর হাসিরানির সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগ নতুন করে দৃঢ় হয়। ওই সময় থেকেই হাসিরানির ছেলে চন্দ্রনাথ রথ শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
চন্দ্রনাথের হত্যার পর শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ান। ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তে হাসিরানিকে আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী সময়েও রথ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন তিনি।
এবার সেই হাসিরানিই নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিজেপির প্রার্থী। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তিনি নন্দীগ্রামের উন্নয়নে নিজের সর্বশক্তি নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নন্দীগ্রামের কোনও কাজ বাকি থাকবে না এবং শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে তিনি এলাকার মানুষের জন্য কাজ করবেন।