কলকাতা: দুর্গাপুজোর আবহে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। আমিষ খাবার গ্রহণের সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়কে জড়িয়ে সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু বাগেশ্বর বাবা। সেই বিতর্কের মাঝেই শনিবার গণেশপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, বাঙালি একইসঙ্গে নিরামিষ খেয়ে পুষ্পাঞ্জলি দিতে এবং মাছ দিয়ে প্রসাদ পরিবেশন করতে জানে।
কয়েক দিন আগে হাওড়ার লিলুয়ায় এসেছিলেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবা। সেখানে তিনি আমিষভোজী হিন্দুদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পুজোর সময় আমিষ খাবার গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করে তাঁদের ‘পাখণ্ডী’ বলেও অভিহিত করেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক।
পরবর্তী সময়ে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে বাগেশ্বর বাবা দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, পুজোয় আমিষ খেতে বারণ করার অধিকার তাঁর নেই। তবে ধর্মীয় পরিবেশে মণ্ডপে মাছ-মাংস খাওয়ার বিরোধিতা করেছেন বলেই ব্যাখ্যা দেন।
এই প্রসঙ্গেই শুভেন্দু বলেন, বাঙালির নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতির মধ্যে বৈচিত্র্য রয়েছে। তাঁর কথায়, বাঙালিরা জানে কোন দিনে নিরামিষ গ্রহণ করে পুষ্পাঞ্জলি দিতে হয়, আবার মাছ দিয়ে প্রসাদ দেওয়ার রীতিও জানে।
এদিকে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে সমর্থন করেননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং অগ্নিমিত্রা পাল। ফলে খাদ্যাভ্যাস, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং বাঙালির ঐতিহ্য নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ধর্মীয় বিধিনিষেধ আরোপের অধিকার আদৌ কারও রয়েছে কি?