কলকাতায় আয়োজিত হাওড়া টাউন ডায়াবেটিস স্টাডি সোসাইটির ১১তম জাতীয় সম্মেলনে ডায়াবেটিস চিকিৎসা ও রোগীকল্যাণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হল। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর সল্টলেকের হায়াত রিজেন্সি হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের মূল ভাবনা ছিল ‘স্টেয়িং ওয়েল ইন ডায়াবেটিস’। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকেরা এতে অংশ নেন।
সম্মেলনে চিকিৎসকেরা জানান, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা কমানোই যথেষ্ট নয়। রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং রোগজনিত জটিলতা প্রতিরোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি, ইনসুলিনের সঠিক প্রয়োগ, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা বজায় রাখলে ডায়াবেটিসকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সময়মতো চিকিৎসা ও সচেতনতা রোগীদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তা করতে পারে।
২০১৮ সালে পথচলা শুরু করা হাওড়া টাউন ডায়াবেটিস স্টাডি সোসাইটি চিকিৎসকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে চলেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি নিয়মিত জাতীয় বৈজ্ঞানিক সভার আয়োজন করে আসছে।
সংগঠনের সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স সম্পাদক জয়তী ভট্টাচার্য জানান, সম্মেলনে ডায়াবেটিস চিকিৎসার সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মতামত ভাগ করে নেন। এই ধরনের বৈজ্ঞানিক আলোচনা চিকিৎসাক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করবে।
সম্মেলনের সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে নেপালের দুর্যোগপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ত্রাণ সহায়তার উদ্দেশ্যে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয়।
ড. গুরুপ্রসাদ ভট্টাচার্য, ড. সঞ্জয় কে শা, ড. বি পি পান্ডে এবং ড. মৃদুল বেরা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক সচেতনতা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তাঁদের বার্তা, সঠিক পরামর্শ, নিয়মিত সতর্কতা এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনই ডায়াবেটিস মোকাবিলার প্রধান হাতিয়ার।