অনলাইন গেমিং অ্যাপকে ব্যবহার করে তরুণদের জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগ এবং ধীরে ধীরে মগজধোলাই করার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ভারতীয় উপমহাদেশে আল কায়েদার শাখা ‘আকিস’ পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া এবং বীরভূমে সংগঠনের সক্রিয়তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সোমবার ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজার এবং নোদাখালি এলাকায় তেলেঙ্গানা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের যৌথ অভিযানে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং মোবাইল ফোন খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা সংগঠনের যোগাযোগ ও কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। গোয়েন্দাদের দাবি, পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে নির্দেশ আসত কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, বিভিন্ন অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে তরুণদের নজরে রাখত সংগঠনের লিঙ্কম্যানরা। পরে নির্বাচিত কয়েকজনের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হত। এরপর বিশেষ কিছু অনলাইন গ্রুপ বা অ্যাকাউন্টে যুক্ত করে মতাদর্শগত প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
গোয়েন্দাদের দাবি, এই প্রচারের মধ্যে দেশবিরোধী ও উগ্রপন্থী ভিডিও, বিকৃত জাতীয় প্রতীক এবং জঙ্গি সংগঠনের প্রচারমূলক সামগ্রী ব্যবহার করা হত। পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের ভূমিকা এবং আরও কয়েকটি জেলায় নেটওয়ার্ক বিস্তারের অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পুলিশের নজরে এসেছে আরও কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও গ্রুপ। তাদের মাধ্যমে নিয়োগের চেষ্টা চলত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত।