‘বছরের বেস্ট’ সম্মাননা অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে সমাজ, প্রতিবাদ এবং পরিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যম ব্যক্তিত্ব অভীক সরকার। অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তৃতায় তিনি স্পষ্ট করেন, এই মঞ্চকে বরাবরই রাজনৈতিক অবস্থানের ঊর্ধ্বে রাখা হয়েছে। তাই ‘পরিবর্তন’ শব্দটি ব্যবহারেও তিনি সতর্ক ছিলেন, যাতে কোনও রাজনৈতিক পক্ষের সমর্থন হিসেবে তা ব্যাখ্যা না করা হয়।
তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে আবারও পরিবর্তনের একটি নতুন আশার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা তাঁর মতে ২০১১ সালের পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেয়। সেই কারণেই এ বছরের ‘বছরের বেস্ট’ অনুষ্ঠানকে তিনি বাঙালির পরিবর্তনস্পৃহা এবং নতুন প্রত্যাশার উদ্যাপন হিসেবে তুলে ধরেন।
অভীক সরকারের বক্তব্যে উঠে আসে সমাজে প্রতিবাদের অভাব নিয়েও উদ্বেগ। তাঁর পর্যবেক্ষণ, দীর্ঘদিন ধরেই বাংলায় প্রতিবাদের সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি মনে করেন, সাধারণত শিক্ষিত ও বুদ্ধিজীবী সমাজই প্রতিবাদের নেতৃত্ব দেয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বাধীন অবস্থান অনেকটাই ক্ষীণ হয়েছে। অতীত এবং বর্তমান— দুই রাজনৈতিক পর্বের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বহু বুদ্ধিজীবী বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন, ফলে স্বাধীন প্রতিবাদের ক্ষেত্র সংকুচিত হয়েছে।
তবে হতাশার মধ্যেও তিনি আশার আলো দেখতে চান। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলা কয়েকজন মানুষকে ‘আলোর ঝিলিক’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁদের সম্মান জানাতেই ‘বছরের বেস্ট’ মঞ্চের আয়োজন বলে জানান অভীক সরকার। বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, একটি ছোট উদ্যোগও বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। সেই বিশ্বাস নিয়েই আগামী দিনের ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।