প্রকৃতি সংরক্ষণে আধুনিক আইন ও প্রযুক্তির পাশাপাশি লোকজ বিশ্বাস এবং সামাজিক ঐতিহ্যের ভূমিকাও যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা আবারও সামনে আনছে ‘সেক্রেড গ্রোভ’ বা পবিত্র বনাঞ্চলের ধারণা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় ও সামাজিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে সংরক্ষিত এই বনাঞ্চল আজও বহু বিরল উদ্ভিদ, প্রাণী এবং স্থানীয় জীববৈচিত্রের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘জনজীব বৈচিত্র নথি’ (People’s Biodiversity Register বা PBR) একটি এলাকার জীববৈচিত্র, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং স্থানীয় মানুষের ঐতিহ্যগত জ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ভারতের জীববৈচিত্র আইন, ২০০২ অনুযায়ী প্রতিটি এলাকায় বায়োডাইভার্সিটি ম্যানেজমেন্ট কমিটির মাধ্যমে এই নথি তৈরির ব্যবস্থা রয়েছে। এতে স্থানীয় গাছপালা, প্রাণী, দেশি বীজ, ভেষজ উদ্ভিদ, জলাশয়, লোকসংস্কৃতি এবং পরিবেশনির্ভর জীবনযাত্রার তথ্য সংরক্ষিত হয়।
অন্যদিকে, ‘সেক্রেড গ্রোভ’ বা পবিত্র বনাঞ্চল ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে রক্ষা পেয়ে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গে জাহের থান, বনবিবির থান, গ্রামদেবতার বন, কবরস্থান বা মন্দির সংলগ্ন বহু এলাকা এই ঐতিহ্যের অংশ। একইভাবে মেঘালয়ের খাসি ও জয়ন্তিয়া সম্প্রদায় কিংবা রাজস্থানের বিশনোই সমাজ প্রকৃতি সংরক্ষণের অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে।
পরিবেশবিদদের মতে, পবিত্র বনাঞ্চল বাস্তব সংরক্ষণের প্রতীক, আর পিবিআর সেই সংরক্ষণের নথিভুক্ত রূপ। জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড় ও জীববৈচিত্র ধ্বংসের এই সময়ে লোকজ জ্ঞান, সংস্কৃতি ও পরিবেশচেতনার সমন্বয় ভবিষ্যতের টেকসই সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।