কলকাতা ও সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎসাহের সঙ্গে পালিত হল ‘জাতীয় মথ সপ্তাহ ২০২৬’। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে কাজ করা সংগঠন ‘নেচার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সোসাইটি’ (নিউজ়)-এর উদ্যোগে শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয় একাধিক কর্মশালা ও রাত্রিকালীন মথ পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি। নাগরিক বিজ্ঞান (Citizen Science) মডেল অনুসরণ করে মথের বৈচিত্র নথিভুক্ত করার পাশাপাশি পরিবেশে এই নিশাচর পতঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মথ শুধু রাতের পতঙ্গ নয়, বহু বন্য উদ্ভিদ, ভেষজ, শাকসবজি ও ফলগাছের পরাগায়ণে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া পাখি, বাদুড়, সরীসৃপসহ নানা প্রাণীর খাদ্য হিসেবে তারা খাদ্যশৃঙ্খলকে সচল রাখে। পরিবেশগত পরিবর্তনের সূচক বা বায়ো-ইন্ডিকেটর হিসেবেও মথকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
১৮ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত কলকাতার সাহাপুর, তারদহ, পূর্ব কলকাতা জলাভূমি এবং সুন্দরবনের আমতলি, গোপালগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর ও দক্ষিণ সুরেন্দ্রগঞ্জে পর্যবেক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন এলাকা মিলিয়ে শতাধিক মথ প্রজাতি নথিভুক্ত হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা মোবাইল ফোনে তোলা ছবি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘আই-ন্যাচারালিস্ট’-এ আপলোড করেন, যা ভবিষ্যতে গবেষণা ও নতুন প্রজাতি শনাক্তকরণে সহায়ক হবে।
সংগঠনের দাবি, এই উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন, মথের বিস্তার ও সংখ্যাগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র সংরক্ষণে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।