প্রবাদপ্রতিম বাচিকশিল্পী ও আকাশবাণীর কিংবদন্তি ঘোষক বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করে রাখতে বড় উদ্যোগের কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে শ্যামবাজারে অবস্থিত ঐতিহাসিক বাড়িতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানেই তিনি জানান, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের বাড়িটিকে ‘হেরিটেজ’ হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং নিকটবর্তী শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনের নাম তাঁর নামে করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
শ্যামবাজারের ৩০ বি, রামধন মিত্র লেনের এই বাড়িতেই দীর্ঘদিন বসবাস করেছিলেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী বাড়িটির অবস্থা জীর্ণ হয়েছে। সরকার মনে করছে, এই বাড়িকে সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মূর্তিতে মাল্যদান করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিশেষ করে তাঁর পুত্রবধূ সুস্মিতা ভদ্রের সঙ্গে কথা বলে পরিবারের মতামতও শোনেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে ‘চণ্ডীপাঠ’ আজও বাঙালির আবেগের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে তাঁর স্মৃতিকে আরও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে সরকার। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু একজন শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধাই নয়, বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।