চিন্ময় প্রভুর চোখের জল নাড়িয়ে দিয়েছে বহু মানুষের হৃদয়। বাংলাদেশের সনাতন সমাজের অন্যতম প্রতিনিধি এই হিন্দু সন্ন্যাসী দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকার পর মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় প্যারোলে মুক্তি পেলেও শেষবার মাকে দেখার সুযোগ পাননি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিজের পরিবারের দেশভাগের যন্ত্রণা স্মরণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার কেষ্টপুরে গণেশ পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হিন্দু বলে আমার মাকেও তাঁর বাবার হাত ধরে এক কাপড়ে পালিয়ে আসতে হয়েছিল।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দেশভাগের সময় ওপার বাংলা থেকে তাঁর মা গায়ত্রী দেবীর পরিবারের ভারতে চলে আসার বেদনাদায়ক ইতিহাস।
শুভেন্দু আরও একবার বাঙালি হিন্দুদের নিরাপত্তা ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং প্রণবানন্দের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ তৈরির চেষ্টা হয়েছে। তিনি বলেন, বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড গড়ে তোলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পরম্পরা ফিরিয়ে আনতে হবে।
চিন্ময় প্রভুর পরিস্থিতির সঙ্গে নিজের পরিবারের অতীতের তুলনা টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতভুক্তির সুযোগ না থাকলে তাঁদের অবস্থাও আজ চিন্ময় প্রভুর মতো হতে পারত।
তবে শুভেন্দুর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। বামপন্থীরা তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছেন। সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্তের দাবি, সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে ধর্মভেদ না করে সকলের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
চিন্ময় প্রভুর ঘটনা তাই শুধু আবেগ নয়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, সংখ্যালঘু অধিকার এবং দেশভাগের স্মৃতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নও তুলেছে।