পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর স্কুলের পাঠ্যপুস্তক ও পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিমার্জনের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যক্রম খতিয়ে দেখে আগামী শিক্ষাবর্ষের আগে সীমিত পরিসরে পরিবর্তন আনার প্রস্তুতি চলছে। আপাতত পাঠ্যবইয়ের শব্দভান্ডার পর্যালোচনা এবং কিছু অধ্যায় সংযোজন-বিয়োজনের উপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নতুন পাঠ্যক্রম কমিটির বৈঠকে ‘আম্মা’, ‘আসমান’, ‘গোসল’, ‘ফজর’ এবং ‘দোস্ত’-এর মতো কিছু শব্দ নিয়ে আপত্তি ওঠে। বিজেপির অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাংলায় অপ্রচলিত কিছু বিদেশি শব্দ পাঠ্যবইয়ে ঢোকানো হয়েছিল। পরিবর্তনপন্থীদের দাবি, স্বাভাবিক ব্যবহারের বাইরে জোর করে শব্দ সংযোজন করা হলে তা সংশোধন করা প্রয়োজন।
তবে এই অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, বাংলা ভাষা ঐতিহাসিকভাবেই বিভিন্ন ভাষা থেকে শব্দ গ্রহণ করে সমৃদ্ধ হয়েছে। ‘নাস্তা’ বা ‘সরকার’-এর মতো প্রচলিত শব্দ বাদ দেওয়ার প্রবণতা ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তনের পরিপন্থী হতে পারে বলেও মত তাঁদের।
শুধু শব্দ নয়, ব্যক্তিনাম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। ইতিহাসের বইয়ে দেশভাগ ও উদ্বাস্তুদের অভিজ্ঞতা আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার সুপারিশও বিবেচনায় রয়েছে।
এছাড়া পাঠ্যবইয়ে সামাজিক সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে উদাহরণ বদল এবং কর্মশিক্ষায় আধুনিক কৃষি, ছাদবাগান, কিচেন গার্ডেন ও ইনডোর প্ল্যান্ট চাষের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষে রাজ্যের স্কুলপাঠ্যে ভাষা, ইতিহাস ও ব্যবহারিক শিক্ষায় একাধিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।