কালীপুজোর আগে রাজ্যের প্রতিটি থানায় বড় করে পুজো আয়োজনের ডাক দিয়েছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মন্ত্রীর বক্তব্য, কালীপুজো পুলিশের সংস্কৃতির অঙ্গ, তাই থানায় থানায় এই উৎসব পালন করা উচিত। তবে তাঁর এই আবেদন এখনও কোনও সরকারি নির্দেশ বা বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত নয়।
গত ২৯ অক্টোবর সিউড়িতে বীরভূম জেলা পুলিশের বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী এই প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, থানায় বিজয়া সম্মিলনী হলে সেখানে কালীপুজোও হওয়া উচিত। এমনকী থানায় কালীমূর্তি রাখার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। স্কুলে সরস্বতী পুজোর সঙ্গে তুলনা করে তাঁর দাবি, এর মধ্যে ধর্মীয় বিভাজন খোঁজার প্রয়োজন নেই।
পরে বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত কালীপুজোয় দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পুলিশ প্রিজন ভ্যানে কালীমূর্তি তুলেছিল বলে তাঁর অভিযোগ। সেই ঘটনার জন্য পুলিশের প্রায়শ্চিত্ত করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে ওই ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ ও প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।
সংবিধান কী বলছে?
ভারতীয় সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিককে ধর্মবিশ্বাস ও ধর্মাচরণের স্বাধীনতা দেয়। অন্যদিকে, রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে তাই ব্যক্তিগত বিশ্বাস, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং অন্য ধর্মের মানুষের অধিকার—সব দিক বিবেচনা করতে হয়।
সরকারি নির্দেশ কি জারি হয়েছে?
এখনও প্রতিটি থানায় কালীপুজো বাধ্যতামূলক করার কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তির তথ্য সামনে আসেনি। তাই মন্ত্রীর বক্তব্যকে সরকারি নির্দেশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পুলিশ বা স্বরাষ্ট্র দফতরের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত সামনে এলেই বিষয়টির আইনি দিক আরও স্পষ্ট হবে।