পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্প আনার লক্ষ্যে ৫ নভেম্বর ‘পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগ প্রসার নীতি ২০২৬’ ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। একই দিনে সিঙ্গুরে শিল্পের সম্ভাবনা নিয়েও ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, সিঙ্গুর নিয়ে সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ করবে। এই বিষয়ে অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে কথাও হয়েছে। তবে সেখানে নতুন কারখানা তৈরি বা প্রকল্প শুরুর কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা তিনি করেননি।
সিঙ্গুরের জমিতে নতুন শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে তাই আলোচনা শুরু হলেও এখনই কারখানা ফিরছে বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই। অশোক লেল্যান্ডের তরফেও এ বিষয়ে কোনও নিশ্চিত ঘোষণা সামনে আসেনি। জমির মালিকদের মতামত এবং সংস্থার আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন শিল্পনীতিতে ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য একাধিক আর্থিক সুবিধার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি বিষয়:
১. মহিলা কর্মীদের সুবিধা: যোগ্য ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পে (MSME) মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার জমা দেওয়া EPF-এর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা ফেরত দেবে সরকার। এই সুবিধা ১০ বছর পর্যন্ত পাওয়া যাবে।
২. মূলধনী বিনিয়োগে সহায়তা: যোগ্য সাধারণ শিল্প ইউনিটের জন্য স্থায়ী মূলধনী বিনিয়োগের সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ এবং নির্দিষ্ট অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রে ১২০ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
৩. দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা: এই মূলধনী সহায়তা নির্দিষ্ট শর্তে ১০ বছরে দেওয়া হবে।
৪. জমির ব্যবস্থা: শিল্পের জন্য জমি পেতে ল্যান্ড ব্যাঙ্ক, সরাসরি জমি কেনা ও জমি একত্র করার পরিকল্পনা রয়েছে।
৫. বকেয়া প্রণোদনা: আগের শিল্প-উৎসাহের প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রয়েছে। তা মেটাতে সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে সরকার।
নতুন নীতিতে বিনিয়োগের পথ কতটা সহজ হয় এবং সিঙ্গুরে বাস্তবে কী পদক্ষেপ হয়, এখন সেদিকেই নজর।