দুর্গাপুজোর বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রি এবং ইউনেস্কোর নাম ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী ও গায়ক ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দফতরে প্রায় চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পেশ করার কথা। তবে আদালতের হেফাজত সংক্রান্ত নির্দেশ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
কী অভিযোগ উঠেছে?
অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ‘মাস আর্ট’ (MassArt) নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২৪টি দুর্গাপুজো মণ্ডপে বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রি করা হয়েছিল। প্রতিটি পাসের দাম ছিল ৪,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা। অভিযোগ, প্রচারে ইউনেস্কোর সঙ্গে অংশীদারির কথা এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছিল, যাতে সাধারণ মানুষ সংস্থাটিকে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির অনুমোদিত বলে মনে করতে পারেন।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমানে আর্থিক অনিয়মের অঙ্ক ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা হতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অঙ্কের ফারাক রয়েছে। তাই এই পরিমাণকে চূড়ান্ত হিসাব বলা যাচ্ছে না।
ঘটনাক্রম এক নজরে
জুন: বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের হয় এবং পুলিশ মামলা শুরু করে।
২৯ সেপ্টেম্বর: ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে সম্পর্কিত ১৫টি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি।
১৫ অক্টোবর: কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে।
২৭ অক্টোবর: সুপ্রিম কোর্টে আগাম জামিনের আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়ান।
২৮ অক্টোবর: ইডির জিজ্ঞাসাবাদের পর কলকাতা পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য কী?
ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকেও তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা যাওয়ার দাবি করেছেন। এই দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি। তৃণমূলের বক্তব্য, অর্থটি গানের রয়্যালটি বাবদ বৈধ লেনদেন ছিল।
তদন্তে আর্থিক লেনদেন, পাস বিক্রির হিসাব এবং ইউনেস্কোর সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকেই এখন নজর।