পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন শিল্পনীতি প্রকাশের কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই নীতি প্রকাশ করার কর্মসূচি ছিল। একটি লাইভ আপডেটে নীতি উদ্বোধনের খবর জানানো হলেও, চূড়ান্ত সরকারি নথি এবং সব শর্তের বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসা জরুরি। নীতি প্রকাশের স্থান নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে নবান্ন ও ইকো পার্কের উল্লেখ রয়েছে।
নতুন শিল্পনীতির মূল লক্ষ্য শিল্পপতিদের বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া, সরকারি অনুমোদনের জটিলতা কমানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো। বিশেষ করে দ্রুত ছাড়পত্র, সহজে জমি পাওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার উপরে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রকাশের আগে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছিল, শিল্পের জন্য ব্যাঙ্কঋণের সুদের একটি অংশ সরকার বহন করতে পারে। রাজ্যের জিএসটি-র অংশ ফেরত দেওয়া এবং কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে নিয়োগকর্তার জমা দেওয়া অর্থের উপরে ভর্তুকির প্রস্তাবও আলোচনায় ছিল। মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের নিয়োগে বিশেষ সুবিধার কথাও উঠে এসেছে। তবে এই সুবিধাগুলির চূড়ান্ত পরিমাণ ও সময়সীমা সরকারি নথি দেখে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রেও কড়া নিয়মের ইঙ্গিত রয়েছে। জমি পাওয়ার তিন বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার শর্ত এবং অব্যবহৃত শিল্পজমি ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে। বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থাও গুরুত্ব পেতে পারে।
ইতিমধ্যে এই নীতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, মন্ত্রী শংকর ঘোষ নতুন নীতির মাধ্যমে বাংলায় শিল্পের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
এখন শিল্পমহলের নজর চূড়ান্ত নথির দিকে। ঘোষিত সুবিধা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং কত নতুন বিনিয়োগ ও চাকরির সুযোগ তৈরি হয়, সেটাই হবে এই নীতির সাফল্যের আসল পরীক্ষা।