পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আজ, ৫ নভেম্বর নবান্ন থেকে নতুন শিল্পনীতি প্রকাশের কথা। রাজ্য মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই নীতির খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণার আগে শিল্পমহলে জমি, দ্রুত অনুমোদন এবং বিনিয়োগে সরকারি সুবিধা নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
জমি পাওয়ার নিয়মে কী বদল আসতে পারে?
নতুন নীতিতে শিল্পের জন্য সরাসরি জমি কেনা এবং একাধিক ছোট জমি একত্র করে বড় শিল্পাঞ্চল তৈরির ব্যবস্থা রাখার কথা। সরকারি অব্যবহৃত শিল্পজমিও নতুন করে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। জমি পাওয়ার পর তিন বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার শর্ত এবং নির্দিষ্ট সময়ে কাজ না হলে বরাদ্দ বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে জমির মালিকদের সঙ্গে চুক্তি ও জমি কেনার বিস্তারিত নিয়ম নীতির পূর্ণ নথি দেখে বুঝতে হবে।
চাকরি ও ছোট ব্যবসায়ীদের কী লাভ?
নীতিতে শ্রমনির্ভর শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং গবেষণা ও প্রযুক্তিতে জোর দেওয়ার কথা। বিশেষ করে মহিলাদের ও তৃতীয় লিঙ্গের কর্মীদের নিয়োগে উৎসাহ দিতে কর্মীদের EPF বাবদ নিয়োগকর্তার খরচের একটি অংশ ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। যোগ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ এবং মহিলা ও তৃতীয় লিঙ্গের কর্মীদের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত EPF অবদানের টাকা ফেরতের কথা বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সীমা ও শর্তও রয়েছে।
একটি সিঙ্গল-উইন্ডো পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন, অনুমোদন ও সরকারি সহায়তার প্রক্রিয়া সহজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এতে বাস্তবে কত দিনে অনুমোদন মিলবে, তা কার্যকর হওয়ার পর বোঝা যাবে।
জিন্দালের সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগের আলোচনা
এর মধ্যেই JSW গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান সজ্জন জিন্দাল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করেছেন। রাজ্যে প্রায় ৫০,০০০ কোটি টাকার সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে ৪০,০০০ কোটি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ১০,০০০ কোটি টাকার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। শালবনির ১,৬০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ১৬,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। দ্বিতীয় ইউনিটের ভূমিপুজো জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে হতে পারে।
শিল্পনীতি প্রকাশের পর জমি, ছাড় ও অনুমোদনের চূড়ান্ত শর্ত স্পষ্ট হবে। তবে নতুন নীতিতে কত চাকরি তৈরি হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।