১৬ আগস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে জনগণনার দ্বিতীয় ধাপ, অর্থাৎ ‘হাউস লিস্টিং’ পর্ব শুরু হয়েছে। এই পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন গণনাকর্মীরা। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই প্রক্রিয়া। কোনও বাড়ি বা ফ্ল্যাট বন্ধ থাকলে কিংবা সেই সময় গৃহস্থকে পাওয়া না গেলেও গৃহটি গণনার তালিকা থেকে বাদ যাবে না।
পশ্চিমবঙ্গের জনগণনা কার্য নির্দেশক নিখিল পবন কল্যাণ জানিয়েছেন, গণনাকর্মীরা কোনও বাড়িতে গিয়ে বাসিন্দাদের না পেলে দরজায় বিশেষ স্টিকার লাগিয়ে আসবেন। ওই স্টিকারে দেওয়া তথ্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গণনাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। প্রয়োজনে তাঁরা ফের ওই বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন।
এ বার শুধু আবাসিক বাড়িই নয়, বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত গৃহ বা ঘরও জনগণনার আওতায় আনা হচ্ছে। এই ধরনের স্থানের জন্য পৃথক প্রশ্নাবলি তৈরি করা হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
প্রথম ধাপে পশ্চিমবঙ্গে ৫৩ লক্ষেরও বেশি পরিবার ‘সেলফ এনুমারেশন’ বা স্ব-গণনায় অংশ নিয়েছে। গণনা আধিকারিকের দাবি, দেশের মধ্যে বাংলাতেই সর্বাধিক সংখ্যক পরিবার স্ব-গণনা সম্পন্ন করেছে। অংশগ্রহণকারী উত্তরদাতাদের ৯৩.৮৪ শতাংশ সফলভাবে অনলাইনে নিজেদের তথ্য জমা দিয়েছেন।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার এনুমারেটর এবং ৩০ হাজার সুপারভাইজার যুক্ত রয়েছেন। প্রত্যেক এনুমারেটরকে গড়ে ১৫০ থেকে ২০০টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। কোনও পরিবার ভুল করে একই বাড়িতে বসবাসকারী পৃথক পরিবারকে একসঙ্গে একটি ‘হাউসহোল্ড’ হিসেবে উল্লেখ করলেও পরে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে। নাগরিকদের গণনাকর্মীদের সহযোগিতা করার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন। এ জন্য ১৮৫৫ নম্বরে টোল-ফ্রি হেল্পলাইনও চালু করা হয়েছে।