দুর্গাপুজোর আনন্দে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরা হল না ১৯ জনের। সপ্তমীর রাতে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও প্রবীণ। হাসপাতালের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ১৮ জন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এবং একজন বিহারের মুজফ্ফরপুরের বাসিন্দা।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন মুজফ্ফরপুরের অভিষেক শ্রীবাস্তব (৩৮) এবং তাঁর সাত বছরের ছেলে আয়ান্স। একই পরিবারের বাবা-ছেলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে পরিজনদের মধ্যে।
হুগলির বৈদ্যবাটির শ্রীপর্ণা পোদ্দার (২৬) একটি ক্যানসার হাসপাতালে নার্স হিসেবে কাজ করতেন। কাজের পর বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। নিউটাউনের দুই কিশোরী বর্ণালী হালদার (১৭) ও তানিয়া বিশ্বাস (১৮) ছোটবেলার বন্ধু ছিলেন। একসঙ্গে পুজো দেখতে বেরিয়ে তাঁদেরও আর ফেরা হয়নি।
নদিয়ার চাকদহের আরতি সরকার বিশ্বাস (৪৫), হাওড়ার বালির আকৃতি কুমারী (১৭) এবং আগরপাড়ার প্রাঞ্জল সরকার (১৩)-এর মৃত্যুও পরিবারগুলিকে গভীর শোকে ডুবিয়েছে। তালিকায় রয়েছেন ৬৬ বছরের বিকাশ ভট্টাচার্যও।
এই নামগুলি শুধু একটি তালিকার অংশ নয়—প্রতিটি নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি পরিবার, সম্পর্ক এবং অপূরণীয় ক্ষতি। দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত চলছে। মৃতদের পরিচয় ও বয়স প্রকাশের ক্ষেত্রে হাসপাতালের নথি এবং পরিবারের বক্তব্য মিলিয়ে দেখা জরুরি।