কলকাতার চোরবাগান দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু এবং ২৫ জনের আহত হওয়ার ১১ দিন পরও একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তদন্তের অন্যতম বড় বাধা সিসিটিভি ফুটেজ। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মণ্ডপ চত্বরে থাকা ৩২টি ক্যামেরার মধ্যে ১৬টির ফুটেজ পাওয়া যায়নি। পরবর্তী রিপোর্টে আবার ৩০টি ক্যামেরার মধ্যে ১৭টি চালু না থাকার কথা উঠে এসেছে।
তদন্তের টাইমলাইন
১৭ অক্টোবর: সন্ধ্যায় বৃষ্টির মধ্যে চোরবাগান মণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। ১৯ জনের মৃত্যু হয়, আহত হন ২৫ জন। মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে বলে মাইকে ঘোষণা ঘিরেও তদন্ত চলছে।
২০ অক্টোবর: পুলিশ জানায়, ওই ঘোষণাটি কে করেছিলেন এবং কেন করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মণ্ডপ ভেঙে পড়ার আশঙ্কার পক্ষে তখনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
২৬–২৭ অক্টোবর: ১৬টি ক্যামেরার ফুটেজ না পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। প্রায় ৬০ জনের বয়ান নেওয়া হয়েছে এবং রিপোর্ট অনুযায়ী, ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মণ্ডপের থিমশিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল ও ঘটনাস্থলে থাকা ১২ জন পুলিশকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।
রাজ্য সরকার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার কথা।
কী জানা, কী অজানা?
ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও বেরোনোর পথ, মণ্ডপের নকশা এবং নিরাপত্তার ঘাটতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু ঘোষণাটি কে করেছিলেন, ভিড় কীভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেল এবং কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা এখনও চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়।
দর্শনার্থীদের জন্য উপদেশ: মণ্ডপে ঢোকার আগে বেরোনোর পথ দেখে নিন। শিশু ও বয়স্কদের ভিড়ের মধ্যে সাবধানে রাখুন। অতিরিক্ত ভিড় বা আতঙ্ক তৈরি হলে ধাক্কাধাক্কি না করে নিরাপদ পথে সরে যান।