কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা হয়েছে। ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪০ মিনিটে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় প্রায় ২৫ জন আহত হন। দুর্ঘটনার পর ভিড় নিয়ন্ত্রণ, মণ্ডপের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্তের টাইমলাইন
১৭ অক্টোবর: চোরবাগান পুজোমণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। কলকাতা পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫, ১১০ এবং ৩(৫) ধারায় তদন্ত শুরু হয়।
১৮ অক্টোবর: পুজো কমিটির সম্পাদক ও সহ-সভাপতি-সহ সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। গ্রেফতার হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়; আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অভিযুক্ত।
২১ অক্টোবর: রাজ্য সরকার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে। তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তদন্তে ঘটনার সূত্রপাত, ভিড়ের চাপ, প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থা, নিরাপত্তার প্রস্তুতি এবং আয়োজক থেকে শুরু করে পুলিশ ও দমকলের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও এবং অন্যান্য নথিও পরীক্ষা করা হতে পারে।
এখনও যে প্রশ্নগুলির উত্তর মেলেনি
কী কারণে ভিড়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল? মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল কি? ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে আয়োজক ও প্রশাসনের কারও গাফিলতি ছিল কি না? তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর পাওয়া যাবে না।
মৃতদের পরিবার ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা সহায়তার কথা জানানো হয়েছে। তদন্তের রিপোর্টে ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ঠেকানোর সুপারিশও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।