চোরবাগানের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার তদন্তে মণ্ডপের নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, মণ্ডপ ও আশপাশে থাকা ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে ১৬টির ফুটেজ এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার সময় কী হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে সমস্যায় পড়ছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, মণ্ডপের কাঠামো, প্রবেশ ও বেরনোর পথ এবং ভিড় সামলানোর ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মণ্ডপের নকশা ও নির্মাণ সম্পর্কে জানতে থিমশিল্পী সুশান্ত শিবানী পালকে লালবাজারে হাজির হতে বলা হয়েছে। ঘটনার দিন দায়িত্বে থাকা ১২ জন পুলিশকর্মী এবং কয়েক জন প্রত্যক্ষদর্শীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে কাউকে তলব করা মানেই তিনি দোষী—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর কারণ নেই। তদন্ত শেষ হলেই ঘটনার কারণ ও দায় সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।
কালীপুজোর আগে বড় মণ্ডপগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ঘটনা থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নেওয়া দরকার। জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ভিড় নিয়ন্ত্রণের নির্দেশিকায়ও পরিকল্পিত প্রবেশ, ভিড়ের নজরদারি এবং জরুরি পরিষেবার প্রস্তুতির গুরুত্ব রয়েছে।
মণ্ডপে নিরাপত্তার পাঁচটি জরুরি নিয়ম
১. প্রবেশ ও বেরনোর আলাদা পথ: সম্ভব হলে একমুখী চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে মুখোমুখি ভিড় না হয়।
২. জরুরি নির্গমন পথ: বিপদের সময় দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত, বাধামুক্ত পথ রাখতে হবে। সেখানে কোনও জিনিস রাখা চলবে না।
৩. ভিড়ের হিসাব: মণ্ডপের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অতিরিক্ত ভিড় হলে সাময়িকভাবে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে।
৪. সিসিটিভি ও নিয়ন্ত্রণকক্ষ: ক্যামেরা চালু আছে কি না, রেকর্ডিং হচ্ছে কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে কি না, নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি।
৫. অ্যাম্বুল্যান্সের পথ: জরুরি চিকিৎসা ও উদ্ধারকাজের জন্য রাস্তা খোলা রাখতে হবে।
চোখধাঁধানো থিমের চেয়ে মানুষের নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার। আগাম পরিকল্পনা, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং স্পষ্ট ঘোষণা বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করতে পারে।