চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর দুর্ঘটনায় দায় কার, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। ব্যাঙ্কশাল আদালত পুজো কমিটির সম্পাদক রাজকুমার সেওড়া ওরফে রাজা এবং সহ-সভাপতি শান্তনু দুবে-সহ সাত অভিযুক্তকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। পুলিশ ১৪ দিনের হেফাজত চেয়েছিল। এই ঘটনায় আরও ১৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে।
অভিযুক্তদের আইনজীবীদের দাবি, তাঁদের মক্কেলরা উৎসব দেখতে এসেছিলেন এবং দুর্ঘটনার পরে উদ্ধারকাজে সাহায্য করেছিলেন। তবে পুলিশের অভিযোগ ও অভিযুক্তদের পক্ষের বক্তব্য—দুই দিকই তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, দুর্ঘটনাটি মণ্ডপের ভিতরে নয়, প্রবেশ ও বেরোনোর একমাত্র গেটে ঘটেছিল। তাঁর বক্তব্য, হাতে ধরা দড়ি দিয়ে ভাগ করা ওই গেটে বৃষ্টি শুরু হলে অস্থায়ী হোমগার্ডরা দড়ি ফেলে সরে যান। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সেখানে দায়িত্বে থাকা হোমগার্ডদের পরিচয়ও চেয়েছেন তিনি। পুলিশ এবং অনুমতি দেওয়া দমকল দফতরের ভূমিকা খতিয়ে দেখার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এগুলি তাঁর বক্তব্য, তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
তদন্তে এখনও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি: একটিমাত্র গেটের অনুমতি কে দিয়েছিল? ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে কারা ছিলেন? ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুল্যান্স ছিল কি? বিশেষ তদন্তকারী দল কবে কাজ শুরু করবে? তদন্তের রিপোর্ট কবে প্রকাশ্যে আসবে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিললেই দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।