বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়গনস্টিক সেন্টার এবং প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত জানতে এবার নতুন উদ্যোগ নিল রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশন। মঙ্গলবার কমিশনের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে সমস্ত বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট জায়গায় হোর্ডিং বা বোর্ড টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এমন জায়গায় বোর্ড রাখতে হবে যাতে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সহজেই নজরে আসে। সেখানে বড় হরফে স্বাস্থ্য কমিশনের ফোন নম্বর, ইমেল আইডি এবং ওয়েবসাইটের ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই তথ্য লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য কমিশনের নবনিযুক্ত চেয়ারপার্সন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু জানিয়েছেন, অনেক মানুষ কী ভাবে কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাবেন, তা জানেন না। সেই সমস্যার সমাধানেই এই উদ্যোগ। সাধারণ মানুষ যাতে সহজে কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, সে জন্য ভবিষ্যতে একটি অ্যাপ চালুর কথাও ভাবা হচ্ছে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, বোর্ড বা হোর্ডিং কমলা রঙের হতে হবে এবং সাদা অক্ষরে যোগাযোগের তথ্য লিখতে হবে। বোর্ড লাগানোর পর তার ছবি কমিশনের কাছে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিসেসের সাধারণ সম্পাদক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কমলা রং নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে চিকিৎসক মহলেও। ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের উপদেষ্টা কৌশিক লাহিড়ীর মতে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের খরচে বোর্ড বসানো হলে রঙের বিষয়টি তাদের উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। কমিশনের বক্তব্য, সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে কমলা রঙের ব্যবহার বর্তমান নীতির অংশ।