বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লাগানোর ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ১০ অক্টোবর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বাইরের দেওয়ালে এই ঘটনা ঘটে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঘটনায় চার জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এক মহিলাও রয়েছেন।
প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই মহিলা দাবি করেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন। সেই দাবিকে কেন্দ্র করেই কবির ছবি বা গ্রাফিতিতে কালি লাগানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে এই বক্তব্যের ঐতিহাসিক সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
এদিকে, শাহবাগ থানার পুলিশ রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিবকেও আলাদা করে আটক করেছে বলে খবর। এই আটক এবং শিল্পকলা একাডেমির দেওয়ালে কালি লাগানোর ঘটনার মধ্যে সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই দু’টি ঘটনাকে এক করে দেখার অবকাশ নেই।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। তাঁর সাহিত্য, গান ও চিন্তাধারা দুই বাংলার মানুষের সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ফলে তাঁর ছবি বিকৃত করার ঘটনায় সাংস্কৃতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রচলিত দাবির ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক নথি ও গবেষণার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। পুলিশের তদন্ত এবং আটক ব্যক্তিদের বক্তব্য সামনে এলে ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।