ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কয়েক দশকের পুরনো 'সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি' নিয়ে সংঘাত এবার চরমে পৌঁছেছে। গত এপ্রিল মাসে (২০২৫) পাহলগাম জঙ্গি হামলার পর ভারত এই চুক্তিটি 'স্থগিত' করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে বাগযুদ্ধ চলছে। এই পরিস্থিতিতে আজ এক বিশেষ বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ভারতকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, জলকে রাজনৈতিক 'অস্ত্র' হিসেবে ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পরিপন্থী।
বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক ভাষণে শাহবাজ শরিফ ভারতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো হলো:
শরিফ বলেন, "জল কোনো বলপ্রয়োগের হাতিয়ার হতে পারে না। জলকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা পাকিস্তান তথা এই অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন ও জীবিকার জন্য হুমকি।" ভারত একতরফাভাবে এই চুক্তি স্থগিত করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি ভারতকে পুনরায় চুক্তির শর্ত মেনে চলার এবং হাইড্রোলজিক্যাল ডেটা (পানির প্রবাহ সংক্রান্ত তথ্য) শেয়ার করার আহ্বান জানান।শরিফ স্পষ্ট করে দেন যে, পাকিস্তান তার পানির হকের বিষয়ে কোনো আপস করবে না এবং আন্তর্জাতিক স্তরে এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, "রক্ত এবং জল একসাথে বইতে পারে না।" ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকালই (২ ফেব্রুয়ারি) হেগ-এর সালিশি আদালতের নির্দেশ নাকচ করে দিয়েছে। ভারতের অবস্থান হলো এই আদালতটি 'অবৈধভাবে' গঠিত এবং এর কোনো এক্তিয়ার নেই ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর (যেমন কিষাণগঙ্গা ও রাটল) তথ্য চাওয়ার।পাকিস্তান সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না করা পর্যন্ত ভারত এই চুক্তি পুনরায় কার্যকর করার বিষয়ে কোনো নমনীয়তা দেখাবে না।
সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের সেচ ব্যবস্থা ও অর্থনীতির মূল ভিত্তি। ভারত যদি এই নদের পানি প্রবাহে কোনো পরিবর্তন আনে বা তথ্য দেওয়া বন্ধ রাখে, তবে তা পাকিস্তানের কৃষি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালে এসে এই পানিবণ্টন চুক্তিটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক বড় সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
Copyright © 2024 The Views Express, All Rights Reserved. Developed by PRIGROW