আনন্দপুরের রুবি মোড় সংলগ্ন এলাকায় সোমবার ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার ভোর প্রায় ৩টা নাগাদ, যখন আনন্দপুরের দুইটি গুদামে ভয়াবহ আগুন লাগে। প্রথমে Pushpanjali Decorators-এর গুদামে আগুন লাগে এবং দ্রুত পাশের Wow! Momo-র গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। দুই গুদামেই বিপুল পরিমাণ দাহ্য সামগ্রী মজুত থাকায় মুহূর্তে আগুন ভয়াল রূপ নেয়। স্থানীয়দের দাবি, দুই গুদামে মোট প্রায় ৩৭ জন শ্রমিক ছিলেন, যার মধ্যে মাত্র ৩ জন কোনওমতে প্রাণে বাঁচতে সক্ষম হন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, Wow! Momo ইউনিটে থাকা তিনজন কর্মী ছাড়া বাকি সকলেই Pushpanjali গুদামেই ছিলেন। অধিকাংশ শ্রমিক পাশের জেলাগুলি থেকে এসে গুদাম চত্বরে থাকতেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ১১টি ঝলসানো দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা বেশি থাকায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, এটি সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতার অন্যতম বড় অগ্নিকাণ্ডে পরিণত হতে পারে। প্রশাসন জানিয়েছে, মৃতদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যের নগরোন্নয়নমন্ত্রী ও কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানান, প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এদিকে নারেন্দ্রপুর থানার পুলিশ Pushpanjali Decorators-এর মালিক গঙ্গাধর দাসকে আটক করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দাস পূর্ব মেদিনীপুরের বাড়ি থেকে ধরা পড়েন। তদন্তে উঠে এসেছে, দুই গুদাম যে জমিতে তৈরি, তার মালিক দাস এবং Wow! Momo ওই গুদামটি লিজে নিয়েছিল। পুলিশ ও দমকল সূত্রের মতে, গুদাম দু’টিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল। এক সিনিয়র পুলিশ অফিসার বলেন, “আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে সন্দেহ, রান্নার ওভেন থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। পাশাপাশি গুদামগুলির অগ্নিনিরাপত্তা মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
Copyright © 2024 The Views Express, All Rights Reserved. Developed by PRIGROW